যুক্তরাষ্ট্রে নিখোঁজ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা বৃষ্টিও মারা গেছেন, পাওয়া গেছে দেহের টুকরা

Any Akter
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:৫৫ অপরাহ্ন, ২৫ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ১:৫১ অপরাহ্ন, ২৫ এপ্রিল ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও উদ্বেগের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে চরম দুঃসংবাদ পেলেন যুক্তরাষ্ট্রে নিখোঁজ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির পরিবার। নিখোঁজ হওয়ার কয়েকদিন পর তাকে হত্যার শিকার হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন তার ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি জানান, মার্কিন পুলিশ তাকে ফোন করে নাহিদার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তদন্ত কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, সন্দেহভাজন এক ব্যক্তির বাসা থেকে উদ্ধার করা রক্তাক্ত মানবদেহের অংশের ডিএনএ পরীক্ষায় নাহিদা বৃষ্টির সঙ্গে মিল পাওয়া গেছে।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে খাবারের বাজেট ১৫০ টাকা: তথ্য উপদেষ্টা

তবে এখনো তার দেহের পূর্ণাঙ্গ অংশ উদ্ধার করা সম্ভব হবে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু জানায়নি পুলিশ। এর আগে নাহিদার নিখোঁজ হওয়া নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা গুজব ছড়িয়ে পড়লে তার ভাই সবাইকে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল লিমনেরও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার তথ্য আগে প্রকাশ্যে আসে। ফ্লোরিডার হিলসবরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয় জানায়, ট্যাম্পার হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ থেকে জামিল লিমনের ক্ষতবিক্ষত দেহাংশ উদ্ধার করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী হলেন ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার

একই সময়ে নিখোঁজ হওয়া দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মরদেহ খণ্ডিত অবস্থায় উদ্ধারের ঘটনায় প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে গভীর শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে অধ্যয়নরত ছিলেন। তিনি নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) অ্যাপ্লাইড কেমিস্ট্রি অ্যান্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন।

গত ১৬ এপ্রিল ট্যাম্পায় জামিল লিমনের বাসা থেকে তাকে সর্বশেষ দেখা যায়। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন। এই ঘটনায় লিমনের রুমমেট হিশাম সালেহ আবুগারবিয়েহ নামের এক মার্কিন নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তার বাসা থেকেই নাহিদার মরদেহের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।

বর্তমানে এই জোড়া হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ উদঘাটনে কঠোর জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে মার্কিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।